আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে দলে ভেড়াতে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১২৫ কোটি টাকার বিনিময়ে মার্টিনেজকে দলে নেওয়ার বিষয়ে দুই ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
চেলসিতে যোগ দিলে মার্টিনেজ দুই বছরের চুক্তিতে খেলবেন। চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হতে পারে। নতুন কোচ জাবি আলোনসোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে আনার উদ্যোগ নিয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি। গোলপোস্টে অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর দক্ষতার কারণে মার্টিনেজকে চেলসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চেলসির বর্তমান গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের পারফরম্যান্স নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত সোমবার প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে সানচেজ দুটি বড় ভুল করেন। ম্যাচ জিতলেও তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। গোলরক্ষকের ভুলের কারণে দলের রক্ষণভাগে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় চেলসি নতুন একজন অভিজ্ঞ গোলকিপার খুঁজছিল। সেই বিবেচনায় মার্টিনেজকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে বেছে নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
২০২০ সালে আর্সেনাল থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেন মার্টিনেজ। ভিলায় আসার পর দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন তিনি। ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ সময় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেন এই আর্জেন্টাইন। ভিলার হয়ে তিনি মোট ২৫৬টি ম্যাচে গোলপোস্ট সামলেছেন। গত মৌসুমেও ক্লাবটির ইউরোপা লিগ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মার্টিনেজ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও মার্টিনেজের সাফল্য ব্যাপক। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে তার অবদান ছিল অন্যতম। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের টাইব্রেকারে তার দুর্দান্ত সেভ আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেয়। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিকবার দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন তিনি।
পরবর্তী বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মার্টিনেজ। স্পেনের কাছে ফাইনালে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। বড় ম্যাচে চাপ সামলে অসাধারণ সেভ করার সক্ষমতা এবং পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতার কারণে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাছে তার চাহিদা রয়েছে।
চেলসিতে মার্টিনেজের সম্ভাব্য যোগদান তাই শুধু গোলরক্ষক পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং দলের রক্ষণভাগকে আরও নির্ভরযোগ্য করার বড় পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নতুন কোচ জাবি আলোনসো তার পরিকল্পনায় অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী একজন গোলরক্ষককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মার্টিনেজের প্রিমিয়ার লিগ অভিজ্ঞতা, অ্যাস্টন ভিলায় দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা চেলসিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
চুক্তিটি সম্পন্ন হলে ইংলিশ ফুটবলে মার্টিনেজের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। অ্যাস্টন ভিলায় নিজের অবস্থান শক্ত করার পর এবার চেলসির মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের গোলপোস্ট সামলানোর সুযোগ পাবেন তিনি। একই সঙ্গে রবার্ট সানচেজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে মার্টিনেজের সম্ভাব্য চেলসি-যাত্রা প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন সময়ের অন্যতম আলোচিত গোলরক্ষক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।