Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

মাজারের খাদেম হত্যা: জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ৫

মাজারের খাদেম হত্যা: জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ৫

রংপুরের কাউনিয়ায় সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং লিটন মিয়া ওরফে রফিক। অন্যদিকে হাইকোর্টে খালাস পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড় এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে হত্যা করা হয়। ৬০ বছর বয়সী রহমত আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার পরদিন, ১১ নভেম্বর নিহত রহমত আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতে যায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের ওই রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সও হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্ট মামলার সাত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে দুইজনের সাজা বহাল রাখেন এবং বাকি পাঁচজনকে খালাস দেন।

আদালতের এ রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটিতে নতুন আইনি মোড় এসেছে। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের মধ্যে এখন দুইজনের সাজা বহাল থাকল। অপর পাঁচজন হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছেন। মামলার এই পরিবর্তিত অবস্থান নিয়ে আইন অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রহমত আলী হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ২০১৫ সালে, যখন দেশে জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ছিল। মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনাও সে সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। রহমত আলী হত্যার ঘটনাটিও সেই প্রেক্ষাপটে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

মামলার অভিযোগ ও বিচারিক কার্যক্রমে জেএমবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে। তবে উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনার পর পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে উপস্থাপিত অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিচারিক মূল্যায়ন হয়েছে।

হাইকোর্টে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। আদালতের রায়ের পর মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

রহমত আলী হত্যার প্রায় ১১ বছর পর মামলাটির উচ্চ আদালতের পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। এ রায়ের মাধ্যমে একদিকে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল, অন্যদিকে বিচারিক আদালতে একই সাজা পাওয়া পাঁচ আসামি খালাস পেলেন। ফলে মামলাটির বিচারিক ইতিহাসে হাইকোর্টের রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলে তাকে খালাস দেওয়ার সুযোগও আইনে রয়েছে। এই মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই ধরনের সিদ্ধান্তই এসেছে।

রংপুরের কাউনিয়ায় সংঘটিত রহমত আলী হত্যা মামলার এই রায় তাই শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারিক পরিণতি নয়; একই সঙ্গে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর উচ্চ আদালতে প্রমাণ মূল্যায়নের একটি উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। এখন মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামির ক্ষেত্রে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে।