জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভাজন অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে শাস্তির মুখে পড়া ২১ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ করেছে সরকার। সাময়িক বরখাস্তের পর এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে লঘুদণ্ড আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিবের স্বাক্ষর করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে শাস্তি মওকুফের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে রোববার আইআরডির ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। এসব আদেশে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত ২১ কর্মকর্তার ওপর আরোপিত লঘুদণ্ড মওকুফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি—এমন দুটি পৃথক কাঠামো তৈরির উদ্যোগের বিরোধিতা করে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এর মধ্যে কলমবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। আন্দোলন একপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন শুল্ক, কর ও ভ্যাট কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে।
আন্দোলনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালনের মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল। কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি পরে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজনের বেতন স্কেল দুই বা তার বেশি ধাপ কমানোর মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কয়েকজন রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মওকুফের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাস্তি মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপন ও সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়া এসব কর্মকর্তার ওপর আরোপিত লঘুদণ্ড প্রত্যাহারের পথ তৈরি হলো।
এ সিদ্ধান্তের ফলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো। একই সঙ্গে এনবিআরের সংস্কার, প্রশাসনিক কাঠামো এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে ২০২৫ সালে তৈরি হওয়া বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এনবিআর দেশের রাজস্ব আহরণ, শুল্ক ও কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক কাঠামো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৫ সালের আন্দোলনের সময়ও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে শাস্তিপ্রাপ্ত ২১ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ করা হলেও এনবিআরের প্রশাসনিক সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ রয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও নজরে থাকবে।