Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা ৪৩৪১ হাজিকে ফেরত দেওয়া হবে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা ৪৩৪১ হাজিকে ফেরত দেওয়া হবে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্যাকেজের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে এসব হাজির মধ্যে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের জন্য নির্ধারিত প্যাকেজের বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পর যে অর্থ অব্যবহৃত রয়েছে, সেই উদ্বৃত্ত অর্থ হাজিদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট হাজিরা তাদের প্যাকেজের হিসাব অনুযায়ী প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাবেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এই প্যাকেজের আওতায় সৌদি আরবে যাতায়াত, আবাসন, খাবার, পরিবহনসহ হজ পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা ও ব্যবস্থাপনার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্ধারিত প্যাকেজের অর্থ থেকে এসব সেবা নিশ্চিত করার পর কোনো অর্থ অব্যবহৃত থাকলে তা হাজিদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এবারও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির প্রাপ্য উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে হাজিদের জন্য সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা। প্যাকেজের অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং অব্যবহৃত অর্থের হিসাব হাজিদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সেই ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হজ পালন মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। তাদের একটি অংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং অন্যরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হজ পালন করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে।

হজের মতো বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। তাই হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব, সেবার মান এবং অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্ত সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক হাজির প্যাকেজ ও ব্যক্তিগত হিসাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রাপ্য হবে। তবে সবার ফেরতের পরিমাণ সমান হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্যাকেজ ও ব্যক্তিগত হিসাবের ওপর।

হাজিদের মধ্যে উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার এ উদ্যোগকে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে হাজিরা তাদের দেওয়া অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনায় হাজিদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসন, পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য সেবার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়েও যাতে হাজিদের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরতের খবর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা সংশ্লিষ্ট হাজিদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে। প্যাকেজের অর্থ থেকে ব্যয় শেষে অব্যবহৃত অর্থ ফেরত পাওয়ায় হাজিদের আর্থিক সুবিধা হবে। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার একটি দৃষ্টান্তও তৈরি হবে।

ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ সংবাদ সম্মেলনে হজ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হাজিদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনাও সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছরগুলোতে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হতে পারে। হজযাত্রীদের জন্য সঠিক তথ্য প্রদান, দ্রুত সেবা, আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা—সব ক্ষেত্রেই উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই শুধু অর্থ ফেরতের বিষয় নয়; এটি হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও হাজিদের আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।