Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

র‍্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে মেস থেকে নেওয়ার চেষ্টা, হস্তক্ষেপে রক্ষা

র‍্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে মেস থেকে নেওয়ার চেষ্টা, হস্তক্ষেপে রক্ষা

রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে র‍্যাবের পরিচয়ে প্রবেশ করে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জনসন রোডের ৫৩/৪ বি এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করলে ওই ছাত্রীকে আর নিয়ে যাওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি ওই মেসে প্রবেশ করে নিজেদের র‍্যাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এসেছেন বলে জানান। একপর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে একটি র‍্যাবের গাড়িতে তোলা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত না করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই শিক্ষার্থীকে আর সঙ্গে না নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি মেসে যান এবং বিষয়টি সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।

সহকারী প্রক্টর আরও জানান, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা এবং পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, সকালে একজন শিক্ষার্থী তাকে মেসে র‍্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। এরপর তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, একজন শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তোলা হয়েছে।

অধ্যাপক তারেকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা প্রথমে ভুল করে ওই মেসে এসেছেন বলে দাবি করেন। পরে তারা চুরির মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। তবে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যে মামলার কথা বলা হচ্ছিল, তার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীকে মেস থেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি। এ কারণে তারা শিক্ষার্থীকে সঙ্গে যেতে দেননি। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রক্টর অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তারা।

এদিকে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আসা ব্যক্তিরা র‍্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন। পরে জানা যায়, বিষয়টির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের সম্পৃক্ততা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই তারা চলে যান।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ষা খাতুনের বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মেসে থাকা অন্যান্য ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্তের ওপর জোর দিয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেস ও আবাসিক এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় যাচাই এবং যেকোনো অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।