Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

লংমার্চ ঘিরে গোলযোগের পরিকল্পনার অভিযোগ, জামায়াতকে নিশানা রাশেদ খাঁনের

লংমার্চ ঘিরে গোলযোগের পরিকল্পনার অভিযোগ, জামায়াতকে নিশানা রাশেদ খাঁনের

জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক লংমার্চকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রাশেদ খাঁনের দাবি, জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়ার পর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহরকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এমনকি সহযোগিতা না চাইলেও আইন অনুযায়ী একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, রাতের বেলা রাজধানীর মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। এসব লাঠি পরবর্তী সময়ে লংমার্চের গাড়িবহরে তোলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

লংমার্চের গাড়িবহরে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, বহরে থাকা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সামনে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে।

রাশেদ খাঁন তার বক্তব্যে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, লংমার্চের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের পেছনে জামায়াতের ভূমিকা ছিল। তিনি মনে করেন, জামায়াত সরাসরি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিবর্তে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চাইছে।

তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নানা মন্তব্য উঠে এসেছে। রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসন সমঝোতা ও জোটগত অবস্থান নিয়ে যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনে আসন সমন্বয়ের বিষয়টি বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে জামায়াতের লংমার্চ নিয়ে রাশেদ খাঁনের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। লংমার্চের উদ্দেশ্য, আয়োজন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্যকে আপাতত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অভিযোগ ও দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা দিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে। একইভাবে লংমার্চ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কথিত লাঠিসোঁটা বহনের বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিশ্চিত করা এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য সামনে এলে লংমার্চ ঘিরে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। বর্তমানে তার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লংমার্চকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টির প্রস্তুতির অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তিনি যে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।