সমাজে ঘৃণা, অশালীনতা ও অসভ্য কথাবার্তাকে বিরোধী দল প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সরকারের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য আচরণকে উৎসাহিত করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে রিজভী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা, বিরোধী দলের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নিয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
রিজভীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্য অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা সমর্থন না করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। রিজভী এটিকে অন্যায় ও অবৈধ কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার শামিল বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সমাজে ঘৃণা ও অসভ্য কথাবার্তাকে প্রশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সরকারপ্রধান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য উপযুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে সেই সমালোচনা যেন শালীন ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়, সেটিই প্রত্যাশিত। তাঁর অভিযোগ, ভিন্ন পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে দেশে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রিজভী আরও বলেন, বিরোধী পক্ষ গত ছয় মাসে সরকারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ বলে দাবি করছে। এর জবাবে তিনি বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ছিল, কিন্তু পরবর্তী কয়েক মাসে তা প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে। তবে রিজার্ভ বৃদ্ধির এই দাবি রিজভীর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাষার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সহিংসতা, বিদ্বেষ বা ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে যুক্তি ও নীতিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে উপস্থাপনের দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে।
রিজভীর বক্তব্যে মূলত রাজনৈতিক বিরোধিতার ধরন, সরকারের সমালোচনার সীমা এবং সামাজিক পরিবেশে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে।