Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

‘ছেলের অবসর মানতে পারছেন না’—মেসির মায়ের কান্নাভেজা বার্তা

‘ছেলের অবসর মানতে পারছেন না’—মেসির মায়ের কান্নাভেজা বার্তা

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি Lionel Messiকে ঘিরে আবারও আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার সামনে এসেছে তাঁর মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনির আবেগঘন অনুভূতি। ছেলের অবসরের প্রসঙ্গ তাঁকে যে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে। মেসির ফুটবলজীবনের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকে প্রতিকূলতা পেরিয়ে ছেলের বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার যাত্রায় মায়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠ থেকে ছেলের বিদায়ের সম্ভাবনা একজন মায়ের কাছে কতটা আবেগের, সেটিও সহজেই অনুমেয়।

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার শুধু আর্জেন্টিনা কিংবা বার্সেলোনার ইতিহাসের অংশ নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। শৈশব থেকেই অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেওয়া মেসি একসময় আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান। বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়া থেকে শুরু করে মূল দলে উঠে তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রফিও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি ছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর মধ্য দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাও পূরণ হয়। সেই সাফল্যের পর মেসিকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগ আরও বেড়ে যায়। তাঁর মা-সহ পরিবারের সদস্যরাও সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রত্যক্ষ অংশীদার ছিলেন। ফলে মেসির সম্ভাব্য অবসরের আলোচনা উঠলেই পরিবারের আবেগ সামনে আসা স্বাভাবিক।

‘আমি এখনও কাঁদছি’—মেসির মায়ের এমন আবেগঘন মন্তব্য তাঁর ছেলের ফুটবলজীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন। একজন মা হিসেবে মেসির শৈশব থেকে বেড়ে ওঠা, কঠিন সময় পার করা এবং বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রতিটি ধাপ তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তাই দীর্ঘদিনের সেই পথচলা শেষ হওয়ার কথা ভাবতেই তাঁর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়া স্বাভাবিক।

মেসির অবসর নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সময় নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহলও বাড়ছে। তবে মেসি মাঠে থাকলেই যে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ কিছু দেখার সুযোগ তৈরি হয়, সেটি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারই প্রমাণ করে। তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, গোল করার ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

মেসির ক্যারিয়ার শেষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিদায়ের সম্ভাবনা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে নানা আবেগ। কেউ চাইছেন তিনি আরও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকুন, আবার কেউ মনে করছেন নিজের পছন্দমতো সময়েই তাঁর অবসর নেওয়া উচিত। তবে মেসির পরিবারের কাছে বিষয়টি নিছক একটি ফুটবল সিদ্ধান্ত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক দশকের স্মৃতি, সংগ্রাম ও সাফল্য।

মেসির মায়ের কান্না তাই শুধু একজন তারকা ফুটবলারের অবসরকে ঘিরে আবেগ নয়, বরং একটি দীর্ঘ যাত্রার শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন মায়ের অনুভূতির প্রকাশ। যে ছেলেকে ছোটবেলা থেকে ফুটবল মাঠে স্বপ্ন দেখতে দেখেছেন, সেই ছেলেকেই একদিন মাঠের বাইরে দেখতে হবে—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য যে সহজ নয়, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়।

বিশ্ব ফুটবলে মেসির প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে তাঁর অবসর নিঃসন্দেহে একটি যুগের সমাপ্তির অনুভূতি তৈরি করবে। ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত আগামী প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আর তাঁর মায়ের চোখের জল হয়তো সেই দীর্ঘ যাত্রার মানবিক দিকটিই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।