Loading...

  • 26 Jul, 2026

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের ৪০ গ্রাম প্লাবিত, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের ৪০ গ্রাম প্লাবিত, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত জেলার কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধির কারণে রাজনগর উপজেলার মনু নদীর দুটি পয়েন্ট এবং কুলাউড়া উপজেলার একটি স্থানে নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ মিলিমিটার, একই দিনের বিকেল ৬টা পর্যন্ত আরও ৭৯ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল, একামধু, গণেশপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজনগর উপজেলার ভাঙ্গারহাট এলাকায় মনু নদীর পানি বাঁধের সমতলে পৌঁছে যাওয়ায় আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর-ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কের নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী ওই অংশে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিধিনিষেধ থাকায় সেখানে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা কাজ করা সম্ভব হয়নি।