সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিটিই)। অধিদপ্তরের অধীন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে রাজস্ব খাতের শূন্য পদে ৫ জনকে ‘ওয়ার্কশপ অ্যাসিস্ট্যান্ট (প্রকৌশল)’ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। ১৭তম গ্রেডের এই পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কারিগরি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের। এরই মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগ্রহীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওয়ার্কশপ অ্যাসিস্ট্যান্ট (প্রকৌশল) পদে মোট পাঁচজন নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যে সিভিল ট্রেডে দুইজন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ট্রেডে দুইজন এবং কম্পিউটার ট্রেডে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি ১৭তম গ্রেডের এবং জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী এ পদে বেতন ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা। এর বাইরে সরকারি বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও প্রযোজ্য হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
এই পদে আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ এসএসসি পাস করলেই হবে না; প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট কারিগরি ট্রেডে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেডে এসএসসি (ভোকেশনাল) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এক বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া স্বীকৃত কোনো বোর্ড থেকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেডে দুই বছর মেয়াদি ট্রেড সার্টিফিকেট অর্জনকারীরাও আবেদন করতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে জাতীয় দক্ষতামান ২ ও ৩-সংক্রান্ত যোগ্যতার বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রার্থীদের কম্পিউটার পরিচালনায় বাস্তব অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ট্রেডের সঙ্গে পদের শর্ত মিলিয়ে দেখা জরুরি।
আবেদন শুরু, শেষ কবে
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এই নিয়োগে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করার শেষ সময় ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে যোগ্য প্রার্থীদের আগেভাগেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করতে হবে অনলাইনে। নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট ট্রেডের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। আবেদনকারীর ছবি ও স্বাক্ষরও নির্ধারিত মাপ অনুযায়ী আপলোড করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্রের কপি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স ও আবেদন ফি
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে। ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। সরকারি চাকরির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বয়সসংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা থাকলে তা বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী বিবেচিত হবে।
এই নিয়োগে আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬ টাকা। অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত নিয়মে ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি জমা না হলে আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না। তাই আবেদন ফরম পূরণের পর আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপগুলোও যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
কোথায় হতে পারে পদায়ন
নিয়োগপ্রাপ্তদের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পদায়ন করা হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রার্থীদের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্কশপ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদটি মূলত কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট ট্রেড অনুযায়ী ব্যবহারিক শিক্ষা, ল্যাব বা ওয়ার্কশপ কার্যক্রমে সহায়তা করার মতো দায়িত্ব এ ধরনের পদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তাই যেসব প্রার্থী কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত এবং ব্যবহারিক কাজে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় সরকারি চাকরির সুযোগ।
বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিতদের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেও সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট ট্রেডভিত্তিক এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স এবং কম্পিউটার ট্রেডের প্রার্থীদের জন্য এটি নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের একটি সম্ভাব্য পথ।
চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার আগে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সব যোগ্যতা, বয়সসীমা, ট্রেড, অভিজ্ঞতা ও আবেদন পদ্ধতি ভালোভাবে যাচাই করা। কারণ ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে পরবর্তী ধাপে প্রার্থীকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে অনলাইনে আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনপত্রের কপি সংরক্ষণ করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ৫টি ওয়ার্কশপ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সরকারি চাকরির সুযোগ। আবেদন শুরু হয়ে গেছে এবং সময়ও সীমিত। তাই সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা থাকা প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।