Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

সরকারি বাসা বরাদ্দে বদলালো নিয়ম, এ-বি-সি শ্রেণির বাসা দেবে মন্ত্রণালয়

সরকারি বাসা বরাদ্দে বদলালো নিয়ম, এ-বি-সি শ্রেণির বাসা দেবে মন্ত্রণালয়

সরকারি আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এখন থেকে এ, বি ও সি শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি সরাসরি বরাদ্দ দেবে না সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। ‘বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২’-এর রুল-৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যথাযথভাবে কোটা সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব সরকারি আবাসন বরাদ্দ দিতে হবে। এ বিষয়ে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারি আবাসন পরিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২’-এর রুল-৬ অনুযায়ী এ, বি ও সি শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পন্ন করে থাকে। অন্যদিকে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মূল দায়িত্ব হলো এসব শ্রেণির সরকারি আবাসনের কোটা বিন্যাস ও সমন্বয় করা।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দায়িত্ব আরও স্পষ্ট হলো। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাসা বরাদ্দ করবে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সরাসরি বাসা বরাদ্দের পরিবর্তে কোটা ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।

চিঠিতে দীর্ঘ সময় ধরে খালি পড়ে থাকা সরকারি বাসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ, বি ও সি শ্রেণির কোনো সরকারি বাসা তিন মাসের বেশি সময় খালি থাকলে সেটি আবাসনের পুলে এনে প্রাধিকারভুক্ত কর্মচারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং সরকারি আবাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা।

চিঠিতে বলা হয়, এই নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে ইতোমধ্যে কিছু খালি সরকারি বাসা উপযুক্ত কর্মচারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের অধীন খালি বাসাগুলোর তথ্য পাঠিয়ে বরাদ্দের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ কমিটি-১-এর ৩০ জুনের সভায় আলোচনা করা হয়। ওই সভায় ‘বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২’-এর রুল-৬ অনুসরণ করে এ, বি ও সি শ্রেণির বাসা বা বাড়ি আবাসন পরিদপ্তর থেকে সরাসরি বরাদ্দ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে যথাযথভাবে কোটা সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়।

সরকারি আবাসন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা বাসাগুলো দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাসা খালি পড়ে থাকলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় না, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খালি বাসাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আবাসন সুবিধা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সুবিধা। পদ, দায়িত্ব, কর্মস্থল ও প্রাধিকার অনুযায়ী সরকারি বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত কোটা অনুসরণ করা প্রয়োজন। নতুন সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী বাসা বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর কোটা বিন্যাস ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা তদারক করবে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের চিঠিতে নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে এ, বি ও সি শ্রেণির সরকারি বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি আবাসনের ব্যবহার আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করতে এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘদিন খালি থাকা বাসাগুলো দ্রুত পুলে এনে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বরাদ্দ করা গেলে সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থাপনাতেও শৃঙ্খলা বাড়বে।