Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: চিফ হুইপ

সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: চিফ হুইপ

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং প্রতিবেশীকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তবে যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতিতে সরকার এগিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা ও যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ও আলোচনায় আসে। চিফ হুইপ অভিযোগ করেন, গত ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশে নিপীড়ন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন কয়েকজন ব্যক্তি ভারতে অবস্থান করছেন। তাদের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো অপরাধী যেন প্রতিবেশী দেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়।

তিনি আরও বলেন, ভারত যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের কল্যাণ ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, তাহলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য, ভিসা, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বাণিজ্য ও যোগাযোগের পাশাপাশি নদীর পানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। ফলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব দুই দেশের জনগণের ওপরও পড়তে পারে।

চিফ হুইপের বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরিতা নয়, বরং সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে টেকসই ও কার্যকর করতে হলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ, ন্যায্য পানি বণ্টন, বাণিজ্য ভারসাম্য, বৈধ ভ্রমণ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

এদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেটিই আবারও উঠে এসেছে। ফলে আগামী দিনে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক আস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলোর সমাধানের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।