Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

শিশুকালেই গড়তে হবে নৈতিকতার ভিত্তি, মাদক রোধে শিক্ষায় জোর শিক্ষামন্ত্রীর

শিশুকালেই গড়তে হবে নৈতিকতার ভিত্তি, মাদক রোধে শিক্ষায় জোর শিক্ষামন্ত্রীর

মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষাজীবনের একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি সুস্থ, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিশুদের ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিক শিক্ষা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওপরই বর্তাবে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের দিকে নয়, একই সঙ্গে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তরুণদের মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। একইভাবে স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানুষের সঙ্গে কাজ করা, নেতৃত্ব দেওয়া, সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং দেশের প্রয়োজনে আত্মত্যাগের মানসিকতা অর্জন করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। কারণ কৈশোরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের আচরণ ও ভবিষ্যৎ জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। এ অবস্থায় প্রাথমিক স্তর থেকেই ভালো অভ্যাস, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের চর্চা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি ও নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। দেশের প্রায় ২২ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষাক্রমে পরিবর্তনের বিষয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস, কালচার, এথিকস ও মরালস এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসার, স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম এবং বিএনসিসির জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং ইতিবাচক বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, স্কাউটিং, বিতর্ক, সামাজিক সেবা ও নৈতিক শিক্ষার কার্যক্রম বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত রাখা সম্ভব।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা ভালো ফলাফল করেছে তাদের যথাযথ সম্মান ও পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়কে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে না দেখে শিক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।