জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন-এর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের সাজা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা আপিলের সাত মাস পার হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আরও কয়েকটি আলোচিত মামলার আপিলও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধানও রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, বরং নির্দেশনামূলক (ডাইরেক্টরি) হওয়ায় নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও আপিলের কার্যকারিতা বহাল থাকে।
মামলার রায় অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা আরও বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে আপিল দায়ের করে। কিন্তু সাত মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আপিলের শুনানি শেষ হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইনে ৬০ দিনের যে সময়সীমা রয়েছে, তা নির্দেশনামূলক। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হলেও আপিল বাতিল হয়ে যায় না এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকে।
প্রসিকিউশনের দাবি, আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় কার্যক্রম এগোচ্ছে না। একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট চাঁনখারপুল হত্যাযজ্ঞ ও আশুলিয়ায় হত্যা এবং মরদেহ পোড়ানোর মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও।
এদিকে জুলাই হত্যাযজ্ঞ-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ এবং হাসানুল হক ইনু-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায় চলতি মাসের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং আপিল নিষ্পত্তির সময়কাল নিয়ে আইনজীবী ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই শুনানির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
ট্যাগ:
শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আপিল, মৃত্যুদণ্ড, জুলাই হত্যাকাণ্ড, চিফ প্রসিকিউটর, আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ রাজনীতি, বিচারিক কার্যক্রম, ট্রাইব্যুনাল, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসানুল হক ইনু, আদালত, আইন ও বিচার, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আপিল শুনানি, বাংলাদেশ আদালত, রাজনৈতিক মামলা