দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনভিত্তিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উন্নয়ন করা হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নভো থিয়েটারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে কাজ শুরু করেছে। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় শিল্পখাত হিসেবে সেমিকন্ডাক্টরকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, এ খাতের বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবা রপ্তানির আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর-সুবিধা, বন্ড সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই সরকার শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংস্থার মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সামিটে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নিচ্ছেন।
দুই দিনের এই সম্মেলনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করছেন।
সামিটের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এ শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে।