Loading...

  • 11 Sep, 2026
সর্বশেষ

শাহে আলমকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘সাইবার হামলার’ অভিযোগ চ্যানেল ওয়ানের

শাহে আলমকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘সাইবার হামলার’ অভিযোগ চ্যানেল ওয়ানের

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজেদের ফেসবুক পেজে ধারাবাহিক সাইবার হামলার অভিযোগ তুলেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই তাদের ফেসবুক পেজে ভুয়া কপিরাইট দাবি, গণহারে রিপোর্ট এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাকের চেষ্টাসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চ্যানেল ওয়ান জানায়, ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার ওয়ান বুলেটিনে ‘নীতি-নৈতিকতা ভেঙে সরকারের সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ব্যবসা; তিনটি মন্ত্রণালয়ে ঠিকাদারি’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঠিকাদারি কাজের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছেন, যার মধ্যে তার নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনেও প্রকল্প রয়েছে। বিষয়টিকে সংবিধান ও নৈতিকতার পরিপন্থী উল্লেখ করে আইনজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

চ্যানেল ওয়ানের প্রধান সম্পাদক নাজমুল আশরাফ গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলা শুরু হয়। তিনি বলেন, ফেসবুকে ‘আনন্দবার্তা’‘আলি খান’ নামে দুটি পেজ থেকে ভুয়া কপিরাইট দাবি করে প্রতিবেদনটি ব্লক করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট ফটোকার্ডও সরিয়ে ফেলা হয় এবং পরে অসংখ্য বট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্টে রিপোর্ট করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-সংক্রান্ত নতুন কোনো পোস্ট প্রকাশ করলেই সেটিতে রিপোর্ট করা হচ্ছে। এমনকি ভুয়া কপিরাইট অভিযোগে কয়েকটি সংবাদ, ফটোকার্ড, ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ছবি ও কভার ছবিতেও স্ট্রাইক দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল চ্যানেল ওয়ানের ফেসবুক পেজ স্থায়ীভাবে অকার্যকর করে দেওয়া।

চ্যানেল ওয়ান আরও জানায়, তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে এবং ফেসবুক পেজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

May be an illustration of text

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ করেই প্রস্তুত করা হয়েছে। কারও আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইনগত বা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে সাইবার হামলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে চ্যানেল ওয়ান।

উল্লেখ্য, প্রায় ১৬ বছর সম্প্রচার বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল পুনরায় সম্প্রচারে ফিরে আসে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন সরকার বিটিআরসির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ স্থগিত করলে চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

চ্যানেল ওয়ানের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।