পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী Ehsanul Haque Milon। তিনি বলেছেন, কোনো শিক্ষার্থী প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ ফল করলে শুধু ট্যাবুলেশন শিট নয়, প্রয়োজনে পরীক্ষার উত্তরপত্রও পর্যালোচনার সুযোগ পাবে।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ রাখা হচ্ছে। এতে ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকলে তা যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি মনে করে তাদের ফলাফলে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে, তাহলে তারা ট্যাবুলেশন শিটের পাশাপাশি পরীক্ষার খাতাও দেখতে পারবে। এর মাধ্যমে মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষা পরিচালনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়েও সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলে সতর্ক করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, অতীতে যেসব দুর্বলতা ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং ফলাফল প্রকাশের পর অভিযোগ ও বিভ্রান্তি কমাতে সহায়ক হবে।