সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তার দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রপতির পদকে কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিষয় হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মো. সাহাবুদ্দিন যথাযথ মর্যাদা বজায় রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করেছেন বলে মন্তব্য করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের সময় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন স্বৈরাচারী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার সেই সময়কার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, ৫ থেকে ৮ আগস্টের সংকটময় সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় রাখতে সাহাবুদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা প্রশংসার দাবিদার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতিকে সব ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে দেওয়া হয়নি বলেও তার পর্যবেক্ষণ।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণসহ যেকোনো বৈধ কারণে পদত্যাগ করতে পারেন। মো. সাহাবুদ্দিন সেই সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পরবর্তী ধাপে এটি সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে এবং এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ বিধি ও সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে। তাই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।