Loading...

  • 26 Jul, 2026

রাম মন্দিরের অনুদান তহবিল নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপের মুখে বিজেপি

রাম মন্দিরের অনুদান তহবিল নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপের মুখে বিজেপি

ভারতের অযোধ্যাতে নির্মিত রাম মন্দিরের অনুদান তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্দির পরিচালনাকারী শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট–এর আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ বিভাগের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং প্রথমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন।

এরপর বিরোধী রাজনৈতিক নেতা অখিলেশ যাদব দাবি করেন, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান উপহারসামগ্রীর হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের পর ট্রাস্টের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিও পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর সাধারণ ভক্ত ও দাতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে তাদের দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার, রুপার ইট ও অন্যান্য মূল্যবান অনুদানের সঠিক হিসাব জানতে চেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রবীণ নেতাও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিষয়টি আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)র জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

তবে অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনো চলমান। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।