যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিট টেলিফোনে কথা বলেছেন। রোববার (৬ জুলাই) ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আলোচনা ছিল গঠনমূলক এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। ফোনালাপে ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত বন্ধে একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে নিজের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে পুতিন বলেন, রাশিয়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকটের সমাধান চাইলেও দেশটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের বিষয়ে তারা তাদের মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
ক্রেমলিনের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং রাশিয়ার বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে পুতিন ট্রাম্পকে জানান, রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে এবং পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেন। তবে ইউক্রেন সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, শহরটি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুই নেতা যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। জেলেনস্কির মতে, যুদ্ধের অবসানের বাস্তব সুযোগ রয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফোনালাপে ট্রাম্প জানান, তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজন হলে আবারও মস্কো সফর করতে পারেন। আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও রাশিয়া শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে পুরো দনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, ইউক্রেন সেই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ সামনে এলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।