অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সেনারা বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় এবং একজন নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ঘটনাটি নতুন করে পশ্চিম তীরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামাল্লার নিকটবর্তী বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি সেনারা আকস্মিকভাবে অভিযান চালায়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব দিক দিয়ে প্রবেশ করে শারীরিক শিক্ষা অনুষদের ভবনে ঢোকে এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জামের ক্ষতি করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জানায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে ভাঙচুর হওয়া কক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর চিত্র দেখা গেছে। প্রশাসনের দাবি, এ ধরনের অভিযান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে।
বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম তীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। অতীতেও একাধিকবার ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার এবং ছাত্রসংগঠনের কার্যালয়ে তল্লাশির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে, পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক অভিযান ও নিরাপত্তা তৎপরতা অঞ্চলটির সামাজিক ও শিক্ষাগত কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকেও আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব অভিযানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের যুক্তি তুলে ধরে থাকে। তবে সর্বশেষ বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।