ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের মানেসরে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী ও তার প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করেন তার স্বামী অঙ্কিত। এই হত্যাকাণ্ডে তাকে সহায়তা করেন তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রজনী দেবী। ঘটনার পর দুজন প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে পালিয়ে যান এবং পরে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে আশ্রয় নেন। তবে গত ৩০ জুন ভারতে ফেরার পর মানেসরের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত দুজনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ মে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অঙ্কিতের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু ২১ মে থেকে মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে খুঁজে পাননি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও সন্তোষজনক কোনো তথ্য না পাওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মামলায় হত্যা ধারা যুক্ত করে তদন্ত জোরদার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অঙ্কিত ও ৩৮ বছর বয়সী রজনী দেবীর মধ্যে গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রজনী হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলার বাসিন্দা এবং মানেসরের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। অন্যদিকে অঙ্কিত স্থানীয়ভাবে একটি তামাকের দোকান পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে গিয়ে দুজনে মিলে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল, যা পরিকল্পিত হত্যার ইঙ্গিত দেয়। বর্তমানে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারের চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থা।