মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে দলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার (৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তদন্তে যদি দলগতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত দায়ের পাশাপাশি দলগত অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকেও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে এবং তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে শনিবার (৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে দলটি আর দেশে রাজনীতি করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবেও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তবে অভিযোগের তদন্ত, প্রমাণ উপস্থাপন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই ভবিষ্যতের আইনি সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।