Loading...

  • 26 Jul, 2026

অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বরে নেওয়ার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের

অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বরে নেওয়ার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের

দেশের প্রচলিত জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছর পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, অর্থবছরের বর্তমান কাঠামোর কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অকার্যকারিতা, অপচয় এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর পরিচালিত হওয়ায় বছরের শেষভাগে বন্যা, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের চাপ তৈরি হয়। ফলে পরিকল্পিতভাবে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।

ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর থাকে। কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দ ব্যয়ের তাগিদে শেষ দুই মাসে তড়িঘড়ি করে বিপুল পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়। এতে প্রকল্পের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন বাজেটের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং অর্থবছরের কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। তার মতে, জানুয়ারি-ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালু করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও উল্লেখ করেন, বাজেট জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হলেও এর বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব থাকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর। তাই জনগণের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতার কাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি সরকারের প্রতি এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে, ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থবছর শুরু হয় প্রতি বছরের ১ জুলাই এবং শেষ হয় পরবর্তী বছরের ৩০ জুন। ডা. শফিকুর রহমানের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অর্থবছর চলবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, যা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের অনুসৃত ক্যালেন্ডারভিত্তিক অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থবছরের সময়সীমা পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তাদের মতে, কৃষি উৎপাদন, আবহাওয়া, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব সংগ্রহের বাস্তবতা বিবেচনায় অর্থবছরের কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, হিসাব পদ্ধতির সমন্বয় এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কারও জরুরি হবে।