কুমিল্লায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছাত্রদলের এক নেতার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করলেই তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া যায় না। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, আইন ও তদন্তের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহত লাকসামের জিসানের বাবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর কাছ থেকে তিনি হুমকি পাচ্ছেন। এরপর মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারের উদ্দেশে অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, জিসান হত্যার ঘটনাটি ঢাকায় সংঘটিত হয়েছে এবং সেই মামলার তদন্তও সেখানেই চলছে। তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয়; আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবনে তিনিও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার দাবি করেন, তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী জনআস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এবং এমন সময়ে বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারের বক্তব্য ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, যদি অভিযোগের কোনো ভিত্তি থাকত, তাহলে অনেক আগেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।