Loading...

  • 26 Jul, 2026

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ৭; সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ৭; সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘নির্ঝর নিটওয়্যার গার্মেন্টস’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ চলাকালে কারখানার অন্তত ১০ জন স্টাফকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।

বিস্ফোরণে আহত শ্রমিকরা হলেন শাহীন (২৫), জাকির হোসেন (২৫), সাবিনা বেগম (৩৪), মঞ্জু মিয়া (২৮), আরিফিন (২২), হৃদয় (২৭) ও খাদিজা (২০)। আহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার বয়লারটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তারা একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং দ্রুত পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আর্থিক ও প্রশাসনিক নানা কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শ্রমিকদের দাবি, অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, শ্রমিকদের অভিযোগ ও ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মালিকপক্ষও স্বীকার করেছে যে বয়লারটি পরিবর্তনের পরিকল্পনা ছিল। তবে অর্থনৈতিক কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন দ্রুত নতুন বয়লার স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কারখানাটিতে প্রায় ৪০০ শ্রমিক ও ৫০ জন স্টাফ কর্মরত রয়েছেন। মালিক নুরুল আমিন সুমনের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনার মাধ্যমে আপাতত পরিস্থিতির সমাধান হয়েছে এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানার যন্ত্রপাতি ও বয়লারের অবস্থা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।