জর্ডানে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার জবাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস এবং আরও কয়েকটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। দেশটির দাবি, এতে কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগেই জানিয়েছিল, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘাঁটি থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এ দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল ও সুলাইমানিয়াহ শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানি কুর্দি বিরোধী সংগঠন কোমালা। এতে অন্তত নয়জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশের সামরিক স্থাপনায়ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব দাবিরও স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় হরমোজগানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক, রেলপথ, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।