Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারী ধর্ষণের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারী ধর্ষণের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট সকালে সান্তাহার রেলওয়ে থানার আওতাধীন নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর বয়স ৪৪ বছর। তিনি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাওয়ার জন্য কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে যাত্রা করছিলেন। অভিযোগের ঘটনাটি ট্রেনের ক্যান্টিনে ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীকে তল্লাশির কথা বলে ট্রেনের ক্যান্টিনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর কাছে মাদক রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরে ক্যান্টিনে থাকা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাকে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিনকর্মী আবু বক্কর সিদ্দিককে। আদালতে হাজির করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগে মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নামও রয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসায় রেলওয়ে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

এই ঘটনায় ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলন্ত ট্রেনে কোনো যাত্রী হয়রানি বা অপরাধের শিকার হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীকে নিরাপদে সহায়তা করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব।

রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে চার সদস্যকে প্রত্যাহার করে তদন্তের আওতায় আনার সিদ্ধান্তকে ঘটনার গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রেনের ক্যান্টিনসহ তুলনামূলক নির্জন স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এদিকে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পর তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে যদি তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অভিযোগে বর্ণিত অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।