Loading...

  • 26 Jul, 2026

ক্রসফায়ারে নিহতদের তথ্য প্রকাশে সরকারের কাছে লিগ্যাল নোটিশ

ক্রসফায়ারে নিহতদের তথ্য প্রকাশে সরকারের কাছে লিগ্যাল নোটিশ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচালিত কথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ‘এনকাউন্টার’সহ বিভিন্ন অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারি তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ১৪ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা অনুরূপ অভিযানে মোট কতজন নিহত হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।

এতে নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার পরিচয়, ঠিকানা, ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থানসহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে এবং অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও সদস্যদের নাম, পদবি ও কর্মস্থলের তথ্যও প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি ঘটনার প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা বিভাগীয় তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

এছাড়া কোনো ঘটনায় সরকারি তদন্ত বা বিচারিক অনুসন্ধানে বেআইনি বা বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক, বিভাগীয় বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থাও জানাতে বলা হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন বা সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার কী ধরনের নীতিমালা বা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব বা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ না করা হলে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।