Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ ও জনগণের স্বার্থে সজাগ থাকার আহ্বান রাশেদ খাঁনের

কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ ও জনগণের স্বার্থে সজাগ থাকার আহ্বান রাশেদ খাঁনের

কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবসময় সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন তিনি। দেশের ভবিষ্যৎ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কওমি তরুণদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন। তার পোস্টে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও আস্থার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তিনি লেখেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তার কাছে সবসময়ই প্রিয় এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করে না।

রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে দেশের জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ওই গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এ জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

কওমি মাদরাসা বাংলাদেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। জাতীয় বিভিন্ন সংকট ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কওমি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। রাশেদ খাঁনের বক্তব্যেও সেই সামাজিক ও জাতীয় ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি কওমি তরুণদের দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, দেশের প্রয়োজনে কওমি শিক্ষার্থীদের সবসময় প্রস্তুত ও সজাগ থাকতে হবে। তিনি দেশপ্রেম, জনগণের স্বার্থ এবং জাতীয় দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়ে তরুণদের ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পোস্টের শেষাংশে কওমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো হে বীর দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীরা।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক তরুণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের প্রয়োজনে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পোস্টটির নিচে মন্তব্য করেন। অনেকেই জাতীয় বিভিন্ন সংকটের সময় কওমি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ এবং দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে আলোচনা করেন।

সমর্থকদের অনেকে মনে করেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল রাখতে এ ধরনের আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় আসে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে রাশেদ খাঁনের বক্তব্য সেই আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও দেশের প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

কওমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এই আহ্বানের মধ্যে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল থাকার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা রয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে তরুণদের শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও এর মাধ্যমে সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পোস্টে কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকার প্রশংসা এবং ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজনে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং কওমি শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়ে নতুন করে মতামত প্রকাশ করছেন অনেকে।