Loading...

  • 26 Jul, 2026

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯; ঐতিহাসিক লাভরা আশ্রমে আগুন

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯; ঐতিহাসিক লাভরা আশ্রমে আগুন

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। এ সময় শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আগুন লেগে যায় ইউক্রেনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রমে।

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এই বড় ধরনের হামলা চালানো হয়।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে কিয়েভকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি হামলা প্রতিহত করলেও অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শহরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। এতে আবাসিক ভবন, অবকাঠামো এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হামলার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা হামলার দাবি করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় সফল আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা এবং তুলা অঞ্চলের একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনা রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে কিয়েভ।

রাশিয়ার পক্ষ থেকেও ইউক্রেনীয় হামলার কিছু তথ্য স্বীকার করা হয়েছে। ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তুলা অঞ্চলেও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি শিল্প কারখানার ভেতরে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য উপায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলা প্রমাণ করছে যে যুদ্ধ এখনো দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফলে ইউক্রেন সংকটের দ্রুত সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ট্যাগ:
রাশিয়া, ইউক্রেন, কিয়েভ হামলা, রুশ বিমান হামলা, ভ্লাদিমির পুতিন, ভলোদিমির জেলেনস্কি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইউক্রেন যুদ্ধ, কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা, আন্তর্জাতিক সংবাদ, ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, রয়টার্স, ইউরোপীয় সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২৬