Loading...

  • 26 Jul, 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় একমাত্র আসামি হিসেবে বিচার মুখোমুখি হন হাসানুল হক ইনু। তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি, হত্যার নির্দেশনা প্রদান, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে সহায়তার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ইনুর ভূমিকা ছিল। এছাড়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে সমর্থন করা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সহিংস কর্মকাণ্ডে প্ররোচনার অভিযোগও আনা হয়।

প্রসিকিউশনের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ। তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ মোট ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথিপত্র এবং পাঁচটি আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষও দুইজন সাফাই সাক্ষী হাজির করে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করে।

বিচার চলাকালে হাসানুল হক ইনু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পুনর্তদন্ত, অতিরিক্ত সাক্ষী তলব এবং খালাসের আবেদন জানালেও ট্রাইব্যুনাল সেসব আবেদন খারিজ করে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, আন্দোলন দমন এবং সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের বক্তব্য ছিল, অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

সব পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উপস্থাপিত নথি পর্যালোচনা শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী হাসানুল হক ইনু দেশের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জাসদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া একাধিকবার কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।