Loading...

  • 26 Jul, 2026

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের (৫৫তম ব্যাচ) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (৪ জুলাই) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫৫তম ব্যাচের নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নিয়ে র‍্যাগিং করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের কান ধরানো, অশালীন ভাষায় গালাগাল করা এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানি করা হয়। বিষয়টি গোপনে এক নবীন শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিকে জানালে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের আটক করেন। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’-এর ৫(উ) ধারা লঙ্ঘন করেছে। এই ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ ও ক্যাম্পাসে র‍্যাগিং, টিজিং এবং যেকোনো ধরনের নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে র‍্যাগিংবিরোধী অবস্থান আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে এবং নবীন শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারেন।