ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানালেও অতীতের সামরিক সংঘাতকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তাদের মতে, এই যুদ্ধ শুধু অপ্রয়োজনীয়ই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ব্যয়বহুল ও কৌশলগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত।
ইরানের সঙ্গে পূর্ববর্তী পরমাণু আলোচনা প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী Robert Malley সাম্প্রতিক সমঝোতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক।
তবে একই সঙ্গে রবার্ট ম্যালি মন্তব্য করেন, এই সমঝোতা আসলে পূর্ববর্তী যুদ্ধনীতির ব্যর্থতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তার ভাষায়, সংঘাতটি ছিল “বেপরোয়া ও ব্যয়বহুল বিপর্যয়”, যার ফলে বহু জটিল সমস্যা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বরং যুদ্ধের পর এসব প্রশ্নের সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ওবামা প্রশাসনের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Ben Rhodesও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নতুন সমঝোতার মাধ্যমে মূলত এমন একটি সমুদ্রপথ পুনরায় চালু করা হচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই উন্মুক্ত ছিল। তার মতে, যুদ্ধের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় বর্তমান সমঝোতার অর্জন সীমিত।
বেন রোডস আরও দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যে আলোচনা এখন শুরু হচ্ছে, তা যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের যে কৌশলগত লক্ষ্য ছিল তার চেয়েও সংকীর্ণ পরিসরে সীমাবদ্ধ। ফলে সংঘাতের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
তার ভাষায়, এই যুদ্ধ বিশ্বের জন্য একটি “বিশাল মূল্য” বয়ে এনেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের পর ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো, বিশেষ করে Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) আগের তুলনায় আরও আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত অবস্থানে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলেও উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ফলে সাম্প্রতিক সমঝোতাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও সামনে আরও কঠিন আলোচনা অপেক্ষা করছে।
ট্যাগ:
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প, রবার্ট ম্যালি, বেন রোডস, হরমুজ প্রণালি, আইআরজিসি, পরমাণু কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্য, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, শান্তি আলোচনা, মিডল ইস্ট আই।