গোপালগঞ্জে আদালত কক্ষে বিচারকের ছুড়ে দেওয়া একটি পেপার ওয়েটের আঘাতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী আহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ আদালত চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয় এ বিক্ষোভ মিছিল।
আইনজীবীরা প্রথমে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে সমবেত হন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তারা “আমার বোন আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “এজলাসে রক্ত কেন, প্রশাসন জবাব চাই” এবং **“ঘুষখোরের আস্তানা গোপালগঞ্জে হবে না”**সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে আদালত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট মিলন শরীফ, অ্যাডভোকেট রোকাইয়া আক্তার রুপাসহ একাধিক আইনজীবী বক্তব্য দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, যিনি আদালত কক্ষে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তার বিচারিক দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার নেই। তারা সংশ্লিষ্ট বিচারকের দ্রুত অপসারণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (২২ জুলাই)। অভিযোগ অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক মো. সুজন মিয়ার আদালত চলাকালে আদালত কক্ষের পেছনের দিকে কয়েকজন বিচারপ্রার্থী আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় বিচারক ক্ষুব্ধ হয়ে একটি কাঁচের পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন। এতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত লাগে এবং তিনি আহত হন।
পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও, সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিচারক বা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।