Loading...

  • 26 Jul, 2026

গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েলের সম্মতি চায় যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধ পুনরায় শুরুর সুযোগ কমছে

গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েলের সম্মতি চায় যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধ পুনরায় শুরুর সুযোগ কমছে

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে চূড়ান্ত সমাধান না হলেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে ইসরায়েলকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে Middle East Eye। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রশাসন গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসরায়েলের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট নিরসন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু করতে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা অবকাঠামো পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে গাজায় পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা সীমিত হয়ে আসছে। বরং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে সামনে রেখে নতুন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত সম্মতি বা অনুমোদন চাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, পুনর্গঠন কার্যক্রম বিলম্বিত হলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

প্রস্তাবে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং আবাসন খাত পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা পুনর্গঠন ইস্যু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, মানবিক সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পুনর্গঠন কার্যক্রমকে অপরিহার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশও গাজায় দ্রুত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে অবকাঠামো পুনরুদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।