ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে শহরের একটি এলাকায় মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে। মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে একদল তরুণ হাতে মশাল নিয়ে বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেন। মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলটিতে কারা অংশ নিয়েছিল, তাদের পরিচয় এবং মিছিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি পালন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মশাল মিছিলের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাতে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপরও নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিছিলটি কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, কতজন এতে অংশ নিয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা বা অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির সত্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে। পুলিশের তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুরে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তবে মিছিলের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পুলিশের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারা এতে অংশ নিয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।