Loading...

  • 26 Jul, 2026

এআই ও ডিপফেকের অপব্যবহার ঠেকাতে ডিজিটাল রূপান্তরে সরকার, নেওয়া হয়েছে দুটি প্রকল্প: তথ্যমন্ত্রী

এআই ও ডিপফেকের অপব্যবহার ঠেকাতে ডিজিটাল রূপান্তরে সরকার, নেওয়া হয়েছে দুটি প্রকল্প: তথ্যমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে সৃষ্ট অপতথ্য, গুজব ও ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বিদ্যমান এনালগ কাঠামো থেকে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল সমস্যার জন্য ডিজিটাল সমাধান বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য ফাহিমা নাসরিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, এআইভিত্তিক অপতথ্য, ভুয়া ছবি-ভিডিও এবং ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সম্পর্কে সরকার পুরোপুরি অবগত। এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহারে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তথ্য ব্যবস্থাপনার যে কাঠামো রয়েছে, তা মূলত এনালগ পদ্ধতির ওপর গড়ে উঠেছে। কিন্তু বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকরভাবে এগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সরকার ধাপে ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আপাতত প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিরোধী দলের সদস্য রাশেদুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এনালগ ব্যবস্থা থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় সফল রূপান্তরই এআই ও ডিপফেকজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন প্রযুক্তি ও নীতিমালার মাধ্যমে এআই-এর অপব্যবহার রোধে কাজ করছে। বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করে এ ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায়।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ডিজিটাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং এআইভিত্তিক অপতথ্য ও ডিপফেক মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।