Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

এআই নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, সংসদে উঠবে খসড়া বিল

এআই নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, সংসদে উঠবে খসড়া বিল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এআই-সংক্রান্ত আইনের খসড়া বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিমতলীতে এশিয়াটিক সোসাইটি আয়োজিত ‘এআই গভর্ন্যান্স সামারি স্কুল’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে খসড়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পর সেটি সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

আইনমন্ত্রী এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেন। তার মতে, বর্তমানে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অভাবে বিচারিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নতুন ধরনের জটিলতা ও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এআইয়ের অপব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি, ভুয়া ছবি কিংবা ডিজিটাল প্রমাণ তৈরি করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এআইয়ের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নথি বা তথ্য তৈরি করা সম্ভব হলেও বিচারককে সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রায় লেখার ক্ষেত্রে এআই সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে বিচারকদের কোনোভাবেই প্রযুক্তিটির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এআইনির্ভর ভুয়া তথ্য ও ডিজিটাল কনটেন্টের অপব্যবহার বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কোনো রায় বা সিদ্ধান্ত কারও পছন্দের বিরুদ্ধে গেলে এআই ব্যবহার করে বিচারক কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিচার বিভাগের ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহারের বিস্তৃতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, গোপনীয়তা, ডিপফেক, ভুয়া তথ্য, স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং উচ্চঝুঁকির ক্ষেত্রে মানবীয় তদারকির মতো বিষয়গুলো আইনের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ এআই আইন না থাকায় এসব বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

এদিকে এআই-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিটির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং, জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির আলোচনা চলছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সুসংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি অপব্যবহার প্রতিরোধ, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হতে পারে। তবে আইনটি প্রণয়নের আগে প্রযুক্তিবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

আইনমন্ত্রীও এআই নিয়ে গবেষণা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের আইন প্রণয়নের খসড়া তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের সুপারিশ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি সময়োপযোগী আইন তৈরি করা গেলে প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য অপব্যবহার ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।