Loading...

  • 26 Jul, 2026

দুবাই থেকে কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ?

দুবাই থেকে কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একাধিক মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে এবং আরেকটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।

দুদকের তথ্যমতে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।

বেনজীর আহমেদ দেশত্যাগের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠায়। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এনসিবি অফিস থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়। সেখানে জানানো হয়, দেশটির ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (Extradition) আবেদন পাঠাতে হবে।

এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথিপত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি দলিল সংযুক্ত করে প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট আদালত ও প্রশাসন আবেদনটি পর্যালোচনা করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এনসিবি ঢাকা বর্তমানে রেড নোটিশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সমন্বয়, গ্রেপ্তারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত ফলোআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে দুদক প্রয়োজনীয় সব আইনি নথি প্রস্তুত করছে, যাতে দ্রুততম সময়ে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর ১১ ধারায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন।

প্রত্যর্পণ অনুমোদনের পর তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে দেশে ফেরার পর তাকে সরাসরি দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

ট্যাগ:
বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি, দুবাই গ্রেপ্তার, প্রত্যর্পণ, এক্সট্রাডিশন, ইন্টারপোল, রেড নোটিশ, দুদক, দুর্নীতি মামলা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনসিবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ পুলিশ, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, বাংলাদেশ সংবাদ