বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সুবিধা শুধু শহরকেন্দ্রিক না হয়ে গ্রামাঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও সমানভাবে পৌঁছাতে হবে। এ লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, স্মার্টফোনের দাম কমলে সমাজের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষও সহজে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল সুবিধা আরও বিস্তৃত হবে।
সাক্ষাৎকালে ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভিওনের চেয়ারম্যানকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইন্টারনেটের খরচ আরও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা গেলে দেশের সাধারণ মানুষ ডিজিটাল সেবার পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের জন্য ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।
বৈঠকে উপস্থিত ভিওন ও বাংলালিংক-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের জন্য আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
আলোচনায় দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষই ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হন।