Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

ধানখেতে কাজের সময় বজ্রপাত, একসঙ্গে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

ধানখেতে কাজের সময় বজ্রপাত, একসঙ্গে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধানখেতে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের শৌলখালী গ্রামের একটি মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ভাই হলেন—শৌলখালী গ্রামের মনোরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)। তারা দুজনই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিধান ও মানিক বাছাড় একসঙ্গে বাড়ির কাছের ধানখেতে কাজ করতে যান। সকাল থেকেই ওই এলাকায় আকাশের অবস্থা খারাপ ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ভাই প্রতিদিনের মতো কৃষিকাজ করতে মাঠে গিয়েছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বজ্রপাত তাদের পরিবারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। একই ঘটনায় পরিবারের দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা শোক ও আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন।

নিহত বিধান বাছাড়ের স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। ছোট ভাই মানিক বাছাড়ও স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার দুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো শৌলখালী গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা নিয়মিত মাঠে কাজ করেন। আকাশে মেঘ জমলেও অনেক সময় জীবিকার তাগিদে তারা মাঠের কাজ বন্ধ করতে পারেন না। ফলে বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা মাঠ, ধানখেত ও জলাশয়ের আশপাশে বজ্রপাতের সময় অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মরদেহ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। পরিবার দুটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

বজ্রপাত বাংলাদেশে প্রতিবছরই প্রাণহানির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কৃষক, জেলে, শ্রমিক ও খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আবহাওয়া খারাপ হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া, খোলা মাঠে না থাকা এবং বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার মতো সতর্কতা অনুসরণ করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় মাঠে বা খোলা স্থানে অবস্থান করলে দ্রুত নিচু হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া উচিত। মোবাইল ফোন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার না করে সম্ভব হলে পাকা ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ। কৃষকদের মধ্যে বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি।

মোরেলগঞ্জে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সচেতনতা ও দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। স্বজন হারানোর এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান উঠেছে।