Loading...

  • 26 Jul, 2026

দেশের পাঁচ নদীর ৯ পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমার ওপরে পানি, নিম্নাঞ্চলে সতর্ক থাকার আহ্বান

দেশের পাঁচ নদীর ৯ পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমার ওপরে পানি, নিম্নাঞ্চলে সতর্ক থাকার আহ্বান

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর নয়টি পয়েন্টে এখনও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে, যদিও কিছু এলাকায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিতও মিলছে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আরও কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তিস্তা, কুশিয়ারা, সুরমা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনী নদীর মোট নয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তার ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ পয়েন্ট। এসব এলাকায় নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। উজান ও দেশের অভ্যন্তরে এই বৃষ্টিপাত নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের ১২৭টি নদীর পানি পরিমাপক স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ৪৩টি স্টেশনে পানি কমেছে এবং পাঁচটি স্টেশনে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।