ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও সরকারের কার্যক্রম নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক মনোভাবের চিত্র উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রামের এক জাতীয় জনমত জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ধরনকে সমর্থন করছেন দেশের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ, যা নতুন সরকারের প্রতি জনআস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডেল্টাগ্রাম জানায়, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগে ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ৭ দশমিক ২ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন রয়েছে রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এই হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।
শহর ও গ্রামের জনমতের মধ্যেও কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে সন্তুষ্টির হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক ফলাফলেও প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যে সমর্থনের হার কাছাকাছি থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে অনুমোদনের হার তুলনামূলকভাবে কম, যা ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।
ডেল্টাগ্রামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, জরিপের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে গবেষণার মান নিশ্চিত করা যায়।
জরিপে ৭০ শতাংশ তথ্য সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনে সংগ্রহ করা হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোন সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকদের মতে, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়।
ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতিতে দেশের আট বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মোট ৩ হাজার উত্তরদাতার অংশগ্রহণে পরিচালিত এ জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ছোট নমুনার কারণে কিছু পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতি থাকতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।