ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের একটি সার্ভার থেকে ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে দেশের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম-সংক্রান্ত নথিও রয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশটিতে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (এনপিসিআইএল) জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্য পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল নয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হয়েছে বলে রয়টার্স দাবি করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রিলায়েন্স গ্রুপের অবহেলার কারণে এ তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে অবহিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনপিসিআইএল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত তথ্যগুলো মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মিত ‘ব্যালেন্স অব প্ল্যান্ট’ বা জনসেবামূলক সহায়ক অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংবেদনশীল প্রযুক্তি বা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্যের সম্পর্ক নেই।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে একটি র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ডার্ক ওয়েবে কুদানকুলাম কেন্দ্র-সংক্রান্ত প্রায় ১৯ হাজার নথি প্রকাশ করেছে, যার মোট আকার প্রায় ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট। এসব নথির মধ্যে কেন্দ্রটির কিছু অংশের নকশা ও কারিগরি তথ্যও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অনলাইনে নথিগুলো গত ১১ জুন থেকে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণান।
অন্যদিকে, রিলায়েন্স গ্রুপ তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের তথ্য ইয়োটা নামের একটি তৃতীয় পক্ষের ভারতীয় ডেটা সার্ভারের মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। তবে ঠিক কোন ধরনের নথি প্রকাশ হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, তবুও ডার্ক ওয়েবে এ ধরনের তথ্য প্রকাশের ঘটনা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।