রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার খাজা মার্কেটে অবস্থিত বহুতল আশিক টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে ভবনটিতে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, প্রথমে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কার্যক্রম শুরু করে। পরে আগুনের ব্যাপ্তি বিবেচনায় আরও চারটি ইউনিট পাঠানো হয়। ফলে মোট ছয়টি ইউনিট সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের লিডার শফিকুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আরও চারটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং আশপাশের ভবনগুলো নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে ভবনটির একটি অংশ থেকে হঠাৎ ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে মার্কেটজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতারা দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। অনেকেই নিজের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
খাজা মার্কেট এবং আশপাশের এলাকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে। সরু সড়ক এবং ভবনগুলোর ঘন অবস্থানের কারণে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি পরিচালনাও কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও আগুন যাতে আশপাশের ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, গ্যাস বা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একইভাবে অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবনের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে প্রতিটি তলা তল্লাশি চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি ধোঁয়ায় আক্রান্ত কেউ থাকলে দ্রুত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন। তারা এলাকাটি নিরাপদ রাখতে জনসাধারণকে ভবনের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে অনুরোধ করছেন এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছেন। পাশাপাশি উৎসুক জনতার ভিড় নিয়ন্ত্রণেও কাজ করছে পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।