Loading...

  • 26 Jul, 2026

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, চীনা বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আহ্বান

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, চীনা বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আহ্বান

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় (ইনভেস্টমেন্ট অফিস) শিগগিরই চালু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও বৈশ্বিক ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন নতুন এক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পর্যায়ে প্রবেশ করছে। দুই দেশের মধ্যে আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে শিল্প ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সময় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় স্থাপনের মূল লক্ষ্য হলো চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী কোনো প্রতিষ্ঠানকে আর সহায়তা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। নতুন কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নিয়মিত পরামর্শ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার আওতায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন থেকে নতুন ব্যবসার লাইসেন্স অনুমোদনের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১৫ দিনে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন আচরণ, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা পাবেন। এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিনিয়োগ ফোরামে প্রধানমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর অগ্রগতির বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসব অঞ্চলে আধুনিক অবকাঠামো, বন্দর সুবিধা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, এসব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু শিল্প স্থাপনের সুযোগই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা প্রদান করবে। এর ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলো উৎপাদন, রপ্তানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত বস্ত্রশিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক শিল্পখাতকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা, কর সুবিধা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু একটি বৃহৎ ভোক্তা বাজার নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। দেশের কৌশলগত অবস্থান, তরুণ কর্মশক্তি এবং দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার এই নতুন অধ্যায়ে অংশীদার হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করে দেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক সাফল্যের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান।