Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

ব্যবসায়ী-পর্যটকদের জন্য মার্কিন ভিসা বন্ড সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ব্যবসায়ী-পর্যটকদের জন্য মার্কিন ভিসা বন্ড সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আরও সহজ করতে বর্তমানে চালু থাকা ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, প্রকৃত পর্যটক এবং বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করতে আগ্রহী নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড ব্যবস্থাটি আরও বাস্তবসম্মত ও সহজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর এই আহ্বানের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে বৈধ ব্যবসা, পর্যটন ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট শ্রেণির যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিট ও ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের বিধান রয়েছে। এই ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক বা পর্যটন ভ্রমণে আগ্রহী অনেকের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতি এ ব্যবস্থা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ভ্রমণকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি এ খাতে আরও মার্কিন বিনিয়োগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কৃষি খাতের উন্নয়নেও অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে। রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং এ ক্ষেত্রে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থা সহজ করার রাষ্ট্রপতির আহ্বানকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ, ব্যবসা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।