Loading...

  • 26 Jul, 2026

বন্যার পানিতে আটকে প্রসূতি, বুকসমান পানি পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিল ফায়ার সার্ভিস

বন্যার পানিতে আটকে প্রসূতি, বুকসমান পানি পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিল ফায়ার সার্ভিস

টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রসব বেদনায় কাতর এক গৃহবধূকে বুকসমান পানি পেরিয়ে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সুস্থভাবে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম মিজবাহুল জান্নাত (২২)। তিনি সৌদি প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মিজবাহুল জান্নাতের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তবে কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানিতে বাড়ি থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতির অবনতি হলে ভোরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। উদ্ধারকর্মীরা বুকসমান পানির মধ্যে স্ট্রেচারে করে প্রসূতিকে কাঁধে বহন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। পরে সেখানে অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, উদ্ধার অভিযানটি সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি বলেন, স্টেশন থেকে প্রসূতির শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার পথ সম্পূর্ণ পানির নিচে ছিল। সেই পথ স্ট্রেচারে বহন করেই তাকে নিরাপদে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ডলু, সাঙ্গু ও টঙ্কাবতী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাতকানিয়া অংশে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া ডলু ও টঙ্কাবতী নদীর পানিও এখনও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।