ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। দক্ষিণ ইরানের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ইসরায়েলকে ‘শয়তান’ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এএফপির বরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গালিবাফের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায় গালিবাফ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও সরাসরি দায়ী করার সুর পাওয়া যায়। তিনি ইসরায়েলকে ‘শয়তান’ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক ও নৈতিক অভিযোগ তোলেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেশটির খুজেস্তান প্রদেশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য আরও কঠোর হয়ে উঠছে।
এর আগে গালিবাফ জানিয়েছিলেন, ইরান ও ইরাকের ভবিষ্যৎ কোনো পরাশক্তি নির্ধারণ করবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব প্রত্যাখ্যান করে দুই দেশের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করার অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যেও ইরানের ওপর বিদেশি সামরিক চাপের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
গালিবাফের বক্তব্য ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বর্তমান অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। তেহরান একদিকে সামরিক হামলার প্রতিবাদ করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের সর্বশেষ মন্তব্য সেই উত্তেজনাকেই নতুন করে সামনে এনেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।